প্রথম চিঠি

১৫.০৩.২০১৯ (ইঃ)


প্রিয় সবাই,

আশা করি দিনটা ভালই কেটেছে। সবে মাত্র বাড়ি ফিরেছি। আন্দামান নিয়ে সবার যে এতো আগ্রহ দেখে আমি স্তম্ভিত।

কথা না বারিয়ে প্রথম খবর টা দিই। বিষয় টা হোলো সমুদ্রে বিসর্জন।

খুব সাধারন মানের ভিডিও এবং ছবি। আমার তখন দামি ক্যামেরা ছিল না। মোবাইল এ কাঁচা হাতে তোলা। ওখানকার রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের বিসর্জনের আগে সমুদ্র তিরে আরতি।


Immersion of Durga idol in the sea
সমুদ্রে বিসর্জন

দুর্গা পূজো ওখানে অনেক হয় কিন্তু ঢাকি থাকে না। এতো মগের মুলুক নয় যে ট্রেন এ চাপলাম আর পৌঁছে গেলাম। রামকৃষ্ণ মিশন আর বাঙালি ক্লাব এই দুই জায়গায় ঢাকের আসল বাদ্দি শোনা যায়। দারুন পূজো হয় দুই জায়গাতেই। আলাদা আলাদা দিনে খিচুরি। মানে পুরো জমে ক্ষীর।



আশ্চর্য ব্যাপার হোলো সারা রাত জেগে ঠাকুর ওখানেও দেখা হয়, যারে কয় “Pandal Hopping” এবং গাড়ী সব আগে থেকে বুক। ঠাকুর মোটেও জাহাজে যায় না, ওখানেই তৈরি হয়। তবে হ্যাঁ ঢাকিরা প্লেন এ চেপে যায়। শুধু বাংলি ক্লাবের পুজোয়। রামকৃষ্ণ মিশনে অন্য ব্যাপার। ঢাক তাদের নিজেদের আছে, মহারাজরা নিজেরাই বাজান, এবং দারুন বাজান। মানে আমি তো তাই দেখেছিলাম।

বাঙালি ক্লাবে লাইন পরে ঠাকুর দেখতে, রীতিমতো দড়ি দিয়ে ভীর সামলানো হয়। ভেতরের গ্রাম যেমন সোলদারিতে তে আজও যাত্রা হয়। আমরা গিয়েছিলাম একবার, সে বারের পালা "সীতা হরণ"। লাস্টে সেটা "সীতার বস্ত্রহরন" এ পরিণত হয়েছিল। যে ভদ্রলোক সীতার অভিনয় করছিলেন চর্চার অভাবে শাড়ি টা নিয়ে স্টেজ থেকে আর নামতে পারেন নি।

আরও যেটা মনে পরে সেটা কালী পুজো বা দীপাবলির সময়, ভারতীও নৌ সেনার আতশবাজির প্রদর্শনী। সে মানে ধুন্ধুমার কান্ড। নৌ সেনার জাহাজ কালাপানির উপর দাড়িয়ে দিগন্তবিস্তৃত অন্ধকার আকাশ আলোর রোশনাইয়ে ভরিয়ে দেয়। খুবি উপভোগ করেছিলাম। ওখানে বাজির বাজার ও বসে জানেন। একটা স্টেডিয়াম আছে, সেখানে। সবই ঐ “শিব কাশী”, চেন্নাই থেকে আসে। তবে খুব দাম। জাহাজে করে আসছে বলে কথা।

পূজো কিন্তু শুরু হয় বিশ্বকর্মা দিয়েই। DHS অর্থাৎ Department of Health Service এর গাড়ী চালকরা যথেষ্ট বড় করেই করতো। আমার ব্রাঞ্চ তার মধ্যে হবার দরুন চাঁদাও দিয়েছিলাম। সেলুলার জেল এর পাশেই আমার ব্রাঞ্চ ছিল। সেখানকার কর্মচারীরা সকলেই আমার পরিচিত। মাঝে মাঝেই যেতাম আড্ডা মারতে, দুপুরবেলা বিশেষ করে।


সেলুলার জেল


ওনারাই আমায় বলেছিলেন এই সেলুলার জেলের আসলে সাতটি শাখা ছিলো এখন কেবল তিনটে। বাকি জায়গা জুরে ওখানের জি বি পান্থ (গোপী বল্লভ পান্থ হাসপাতাল)। ১৯৪৭ এ পালা বদলের পরে রাতারাতি চারটে শাখা পুড়িয়ে ফেলা হয়। মনে করা হয় অনেক গোপন তথ্য সেখানে ছিল। কারণ পালা বদল হবার ঠিক আগে (১৯৪২) আন্দামান জাপানিদের হাতে চলে যায়। নেতাজি গিয়েও ছিলেন সেখানে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর (১৯৪৫) কিছুদিনের জন্য ইংরেজরা সেটা ফেরত পায়। ততদিনে পায়ের তলায় মাটি সরে গেছে। কিন্তু সেসব নথি মানুষ দেখুক সরকার বাহাদুর তা চান নি, তাই দে পুড়িয়ে। আমার এগুলো শোনা কথা। সত্যি মিথ্যে অত জানি না।


আচ্ছা এবার আসি বেরানোর কথায়। অনেকেই দেখলাম আমার পছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে উত্তর দিয়েছেন। তবে বিশয় টা নিজের নিজের পছন্দের। আমি বা কে হরিদাস পাল যে বলে দেবো এটাই সব থেকে ভালো। যেটা বলতে পারি তা হোলো, আন্দমানে আমার দেখা সেরার সেরা দ্বীপ হলো “Ross and Smith” আর বারাটাং এর কাছে যে জায়গাটার কথা আমি বলতে চেয়েছিলাম সেটা হোলো “Parrot Island” বা টিয়া পাখির দ্বীপ। তবে আজ আর এগুলোর বিবরণ বা ছবি দেবো না। ওগুলো পরবর্তী চিঠিতে থাকবে।


আপনারা কেউ কেউ লিখেছেন অত ব্যয়বহুল জায়গায় বেড়ানো সম্ভব নয়। মনটা খুব ভারী হয়ে গেলো দেখে। অনেকদিন ওখানের কারু সাথে কথা হয় নি, আগামি রবিবার খোজ নিচ্ছি। আমার আন্দামানের বন্ধুরা দারুণ খুশি হবে যদি জানে আমি ওখানকার মানুষের কথা লিখছি। কথা দিচ্ছি, কোনো ঝুকি না নিয়ে সাদ্ধের মধ্যে কিভাবে ঘুরবেন চেষ্টা করবো জানাতে। প্লেনের টিকিত আগের থেকে কাটা থাকলে পোর্টব্লেয়ার টু পোর্টব্লেয়ার দশ থেকে বারো হাজার টাকা লাগত ২০১১ সালে। আমি ১২ দিনের কথা বলছি গাড়ী, হোটেল,খাওয়া সমেত, ছয়জন লোক। এখন কি ব্যাপার জেনে বলবো।

আজ তাহলে উঠি,


ইতি

রমিত সেনগুপ্ত